এই অসহায় মা তার নবজাতককে বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা করছে | Milaap
এই অসহায় মা তার নবজাতককে বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা করছে
1%
Raised
Rs.5,870
of Rs.4,10,000
9 supporters
  • M

    Created by

    Milaap
  • Bo

    This fundraiser will benefit

    Baby of Mira Guha

    from Kolkata, West Bengal

গর্ভাবস্থার সময় থেকেই মীরা গোটা দিন ধরে তার বাচ্চার জন্য নিজে হাতে জিনিসপত্র বানাতে ভালোবাসতো। তাদের জন্য ও ছোটো ছোটো জামাকাপড়, মোজা বুনছিলো। কিন্তু নিয়তির পরিহাস এমনই যে তার যমজ বাচ্চাদের জন্মের ১০ মিনিটের মধ্যে, প্রথম বাচ্চাটি  মারা যায়।  আর যে বেঁচে আছে সে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে নিশ্বাস নেওয়ার জন্যে, বেঁচে থাকার জন্য।



“সেই যবে থেকে গর্ভধারণ করেছি, নিজের অস্তিত্বের জন্য আমি লড়াই করে চলেছি। প্রায় বছর ঘুরতে  যায় যে আমার স্বামী আমায় ছেড়ে চলে গেছে। আমার নিজের দুর্বল শরীরের জন্যে সময় এর আগে আমার সি-সেকশন করতে হয়। আমি এতই অভাগা যে আমার সম্মতি ফর্ম ভরার জন্য একজন বাড়ির লোক ও ছিল না পাশে। এরকম একটা দিন আসবে, এ আমার স্বপ্নের অতীত। এটা আমার ভাগ্য হিসেবে মেনে নিলেও আমার বাচ্চা মারা যাবে এ আমি মেনে নিতে পারবো না কোনোদিন। আমি  শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাবো তাকেই বাঁচানোর," - মীরা। 

মীরার নবজাতকের অবস্থা এতটাই সংকটপূর্ণ যে নিশ্বাস নেওয়াও তার পক্ষে দুর্বিসহ

মীরার যমজ বাচ্চাদের মধ্যে যে জীবিত আছে, তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। তার জন্মের ঠিক পরেই ডাক্তার মীরাকে জানায় যে তার বাচ্চা নিউমোনিয়া তে সাংঘাতিক ভাবে  আক্রান্ত। এর ফলে বাচ্চাটি সামান্য নিঃশাস পর্যন্ত নিতে পারছে না। বাচ্চাটি যদি শীঘ্র চিকিৎসা না পায় , তার ফুসফুস আস্তে-আস্তে কাজ করা বন্ধ করে দেবে । প্রতি মুহূর্তে নিজের বাচ্চার অবস্থা দেখে মীরার অবিশ্রান্ত চোখের জল ফেলা ছাড়া কোনো উপায়ই নেই।

মীরার বরাবরই উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা ছিল।  গর্ভাবস্থার সময় নিয়িমিত ওষুধ খাওয়া সত্ত্বেও সেই তার এক সন্তানকে বাঁচাতে পারে নি , উপরোন্ত তার অন্য বাচ্চাও প্রতি মুহূর্তে  মৃত্যুর সাথে লড়াই করে যাচ্ছে। প্রচন্ড ব্যাথায় যখন মীরার প্রায় প্রাণ বেরিয়ে যাচ্ছিলো, তখন ও তার স্বামী একবারের জন্য জানতে চেষ্টা করেনি যে মীরা কেমন আছে। মীরা এই সমস্ত ভুলে গিয়ে তার বাচ্চাকে একটা ভালো জীবন দিতে চায়, কিন্তু তা আদৌ সম্ভবপর হবে কিনা সেটা সে তা জানে না।



“আমার স্বামীর সাথে আমি ভালো ছিলাম। একদিন সকালে উঠে হটাৎ জানতে পারি যে সে আর বাড়িতে নেই। যোগাযোগ করার শত চেষ্টা করা সত্ত্বেও আমার স্বামী আর ফেরে নি।  আমি কখনোই বাইরে চাকরি করিনি।আমি পড়াশোনা ও করি নি। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর ওপরেই নির্ভরশীল ছিলাম।  আজ হঠাৎ সে চলে যাওয়া তে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি। বিনা অর্থে কিভাবে নিজের বাচ্চাকে বাঁচাবো সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না। আমার পরিস্থিতির কারণে যদি আমার ১১ দিনের বাচ্চা মারা যায়, আমি বাঁচবো কি নিয়ে?”

মীরা তার ছোট্ট বাচ্চাকে ব্যাথা থেকে মুক্ত করতে পারে না, সে শুধুমাত্র পারে তাকে দূর থেকে দেখতে

মীরার বাচ্চা বিগত ১১ দিন ধরে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট এর সাহায্যে কোনো মেতে বেঁচে আছে।  সে এতোটাই দুর্বল যে তার মায়ের দুধ খাওয়ার ও শক্তি নেই।  

“আমি যতদিন হাসপাতালে ছিলাম, রোজ আমার বাচ্চাকে অন্তত দুবার দেখতে পেতাম।  NICU-র  কাঁচ এর গ্লাসটা কেমন যেন আমাদের মধ্যে বাধা সৃষ্টি করতো।  ওর ছোট্ট দেহটা প্রচন্ড কষ্টের সাথে যুদ্ধ করেত করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ওকে ইনজেকশন দেওয়া হয়, এতো গুলো পাইপ ওর গোটা শরীরে জড়ানো। আমার বাচ্চাটা কাঁদতে পর্যন্ত পারছেনা না। ওকে যতই দেখি ততই নিজের ওপর রাগ বাড়ে।  এতটা অসহায় কোনো মাকে যেন কোনোদিন না হতে হয়।”

মীরার অসহায়তা এতটাই যে তার নিজের ব্যাথায় জর্জরিত শরীর নিয়ে সে তার বাচ্চাকে দেখতে পর্যন্ত পারে না

মীরা শিশু জন্মের পরের ব্যাথা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারে নি। ওর অপারেশন এর ঘা এখনো শোকায়নি, ওর সেলাই পেকে এমন অবস্থা যে মীরার পক্ষে বিছানা থেকে ওঠাও দুর্বিষহ হয়ে গেছে। মীরার বয়স্ক মা, তার নিজের শারীরিক কষ্টের মধ্যেও দেখতে যান তাঁর নাতি কে। মীরা এখন শুধুই ঘরে বসে বাচ্চার কথা ভেবে দিন-রাত কান্নাকাটি করছে।  নাওয়া-খাওয়া ভুলে গিয়ে তার একমাত্র চিন্তা কিভাবে তার একমাত্র সন্তানকে বাঁচানো যায়।

“ যবে থেকে আমার স্বামী চলে গেছে, মা ই তাঁর পেনশনের সামান্য টাকা গুলিও দিয়ে দিয়েছেন আমার ছেলেকে বাঁচাতে। স্বামীর সাহায্য তো দূরের কথা সে জানে পর্যন্ত না যে তার সন্তান যে কোনো মুহূর্তে মারা যেতে পারে। মায়ের জমানো টাকা আর পাড়া পড়শিদের থেকে ধার করে কোনো মোতে ২ লক্ষ্য টাকা জোগাড় করেছি। কিন্তু আমার বাচ্চাটাকে বাঁচাতে আরও ৪ লক্ষ্য টাকা জোগাড় করার সাধ্য নেই।  এতো ধার করে কারুর থেকে আর টাকা চাওয়ার মুখ ও নেই । প্রতিদিন আমার ছোট্ট বাচ্চাটার জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। ওকে না বাঁচাতে পারলে কিছুই আঁকড়ে ধরে বাঁচার নেয় আমার।”

আপনি কিভাবে সাহায্য করতে পারেন

মীরার ১১ দিনের বাচ্চা প্রতিদিন নিশ্বাস নেওয়ার জন্যে লড়াই করে চলেছে।  মীরার স্বামী তাকে পরিত্যক্ত করে দেওয়ার পর, মীরা তার এই ছোট্ট বাচ্চাটাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়।কিন্তু ধার দেনার পর, সাহায্য ছাড়া এই ছোট্ট প্রাণটিকে বাঁচানো অসম্ভব।

আপনার সাহায্যই পারে মীরার এই ছোট্ট বাচ্চাটিকে বাঁচাতে

Read More

Know someone in need of funds for a medical emergency? Refer to us
support